ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ক্ষমতা ছাড়ার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা ইউনূসের

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
০৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ক্ষমতা ছাড়ার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা ইউনূসের

বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে আইন ও নৈতিকতার লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের পরবর্তী এক বছরের জন্য নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিআইপি) ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন তিনি, যা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্না স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে জারি করা হয়। তবে সম্প্রতি এটি জনসমক্ষে আসায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) আইনের ক্ষমতাবলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতা ছাড়ার পরও তিনি এসএসএফ-এর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভিআইপি প্রটোকল সুবিধা ভোগ করবেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ড. ইউনূস ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবরের একটি এসআরও (নং ২৮৫) সংশোধন করে এই সুবিধা নিয়েছেন। পূর্ববর্তী আইনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টাদের দায়িত্ব ছাড়ার পর মাত্র তিন মাসের জন্য এই বিশেষ নিরাপত্তা ও মর্যাদা দেওয়ার বিধান ছিল। কিন্তু ড. ইউনূস এই সময়সীমা তিন মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করেছেন—তবে তা শুধুমাত্র নিজের ক্ষেত্রে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই শ্রেণির অন্যদের (যেমন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী) জন্য সময়সীমা না বাড়িয়ে শুধু নিজের জন্য এটি পরিবর্তন করা আইনের দৃষ্টিতে বৈষম্যমূলক এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার শামিল।

আইনজীবীদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুবিধার্থে আইন পরিবর্তন বা বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, “ড. ইউনূস যদি আগের আইনে বর্ণিত সবার জন্য সময় বাড়াতেন, তবে তার একটি যৌক্তিকতা থাকত। কিন্তু শুধুমাত্র নিজের জন্য এই সুবিধা গ্রহণ করা অনৈতিক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে ড. ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠানগুলো নানা সুবিধা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নিজের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার, নিজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফ এবং নিজের নামে বিশ্ববিদ্যালয় ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স গ্রহণ। সমালোচকরা বলছেন, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিদায়ের আগে এভাবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিশ্চিত করা ড. ইউনূসের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের এই প্রবণতা এবং বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এটি সংবিধান ও সুশাসনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ জুন ১৯৭১: বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

৬ জুন ১৯৭১: অসাম্প্রদায়িকতার ডাক, রাজনৈতিক সমাধানের ৪ শর্ত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক, কোন দেশে কত?

বাড়ল বিদ্যুতের দাম, মূল্যস্ফীতির আগুনে নতুন চাপ

নাটোরের ছাতনী গণহত্যা

৪ জুন ১৯৭১: ছাতনীতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, আন্তর্জাতিক চাপ ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধ

৩ জুন ১৯৭১: জাতিসংঘে তোলপাড়, বিশ্ব জনমত গঠন ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

তোফায়েল আহমেদ / বর্ণাঢ্য রাজনীতির এক ফিনিক্স পাখি

১০

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

১১

১ জুন ১৯৭১: নগরকান্দা গণহত্যা, রণাঙ্গনে বিজয় ও বিশ্ব কূটনীতির নতুন মোড়

১২

৩১ মে ১৯৭১: ‘সমঝোতার সুযোগ নেই’, বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও রণাঙ্গনের খণ্ডচিত্র

১৩

৩০ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, রণাঙ্গনের প্রতিরোধ ও বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গন

১৪

রক্তস্নাত বুরুঙ্গা গণহত্যা (সিলেট)

১৫

২৬ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, প্রতিরোধ ও বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গন

১৬

ভীমনালী গণহত্যা: যে নির্মম ট্র্যাজেডি আজও এক উপেক্ষিত

১৭

২২ মে ১৯৭১: গণহত্যা, প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি

১৮

১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার: কার ইশারায় ঢুকছে মাদক?

১৯

হত্যা মামলায় রক্তাক্ত সাংবাদিকতা

২০