ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
ইতিহাসের পাতায় এক বীরের পদচ্ছাপ / নৌ-কমান্ডো এনামুল হক ও অপারেশন জ্যাকপট
মানুষের জীবনের ক্যানভাসে চিত্রিত দৃশ্য ও অদৃশ্যের নানা গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে সময়। তবে স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সময় পার হলেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বহু বীরত্বগাথা আজও লিখিত রূপ পায়নি, হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গর্ভে। যথাযথ আর্কাইভের অভাবে এমন বহু ঐতিহাসিক ঘটনা যখন ভুলতে বসেছি, ঠিক তখনই কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামনে আসছে সেই অনিশ্চিত, রোমাঞ্চকর ও ত্যাগের দিনগুলোর কথা। এমনই একজন বীর সন্তান নৌ-কমান্ডো মো. এনামুল হক, যিনি একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এ। একাত্তরের ১৬ আগস্টের প্রথম প্রহরে চালানো এই অভিযানটি ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের এক মরণঘাতী প্রহার। চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর—এই চার স্থানে একযোগে চালানো আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অস্ত্র, খাদ্য ও জ্বালানি বহনকারী ২৬টি দেশি-বিদেশি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ব গণমাধ্যমে একযোগে প্রচারিত এই খবর রাতারাতি বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কূটনৈতিক রূপরেখা। বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক তাঁর সেই রোমাঞ্চকর ও আত্মত্যাগের দিনগুলোকে ধরে রেখেছেন বইয়ের পাতায়। ২০২৩ সালের একুশে বইমেলায় নিমপিয়া পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘অপারেশন জ্যাকপট: এক নৌ-কমান্ডোদের অহংকার’ (প্রচ্ছদ: আনিসুজ্জামান সোহেল)। গ্রন্থে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন উত্তাল মার্চের ঢাকা, ২৫ মার্চের নারকীয় গণহত্যা, নৌ-কমান্ডো দলের কঠোর প্রশিক্ষণ এবং মোংলা বন্দরের সেই ঐতিহাসিক আক্রমণের কথা। কক্সবাজারের সমুদ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন ঢাকায় জন্ম নেওয়া এনামুল হকের শৈশব কেটেছে কক্সবাজারে, বাবার চাকুরিসূত্রে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত সাঁতার কাটার সেই তারুণ্যের অভিজ্ঞতাটিই পরবর্তীতে তাঁকে নৌ-কমান্ডো হিসেবে প্রস্তুত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে তিনি যখন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র, তখন দেশজুড়ে চলছিল পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ। সেই রাজনৈতিক সচেতনতা থেকেই যুদ্ধে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেন তিনি। ২৫ মার্চের কালরাত্রির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন— “হঠাৎই শুনতে পাই গুলির আওয়াজ। চারদিকে বারুদের গন্ধ। আব্বা ভয়ে আজান দেওয়া শুরু করলেন। আম্মা মেঝেতে চাদর বিছিয়ে সবাইকে শুয়ে পড়তে বললেন। পরবর্তী তিন দিন চলল কারফিউ। কারফিউ তুলে নিলে ঢাকার অবস্থা দেখতে বেরিয়ে যা দেখলাম তা বলার মতো না। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হলের সামনে দেখলাম মেয়েদের শাড়ি, ব্লাউজ, ওড়না ঝুলছে। জগন্নাথ হলে গিয়ে শুনি ছাত্রদের জীবন্ত পুঁতে ফেলার বীভৎস গল্প। সেই ক্ষোভ থেকেই সিদ্ধান্ত নিই—ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিতেই হবে।” ‘মৃত্যু নিশ্চিত জেনেই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর’ ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন একদিন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন এনামুল হক। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা ক্যাম্পে এসে জানতে চান, কাদের সমুদ্রে ও বড় নদীতে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা আছে। উপস্থিত হাজারো বীরদের মধ্য থেকে ১৭ জনকে আলাদা করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বিশেষ এক ক্যাম্পে। সেখানে এক ভারতীয় ক্যাপ্টেন তাঁদের সোজা জানিয়ে দেন, “এটি একটি সুইসাইডাল স্কোয়াড (আত্মঘাতী দল)—এখানে গেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।” তরুণ এনামুলকে তিনি পরামর্শ দেন সাধারণ ট্রেনিং নিয়ে দেশের ভেতরে ফিরে যুদ্ধ করতে। কিন্তু অকুতোভয় এই তরুণ পিছপা হননি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন— “মৃত্যু নিশ্চিত জেনেই যুদ্ধে এসেছি, স্যার। আমার আরও ভাই আছে, আমি দ্বিতীয়। যুদ্ধে আমি শহীদ হলেও পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হবে না। আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে চাই।” প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার আগেই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছিল—"আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বিসর্জন দিতে সম্মত হয়েই এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছি। যুদ্ধে আমার মৃত্যু ঘটলে কেউ দায়ী থাকবে না।" কঠিন বাছাইপ্রক্রিয়া শেষে ভাগীরথী নদীর তীরে তীব্র সামরিক ও লাইমপেট মাইনের কমান্ডো ট্রেনিং নেন তাঁরা। মোংলা বন্দরের সেই রক্তগরম করা ভোর অপারেশন জ্যাকপটের সেই কালজয়ী স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন—দলনেতার নির্দেশে মোংলা বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজগুলোতে মাইন লাগাতে রওনা হন তাঁরা। যখন নদীতে নামেন, তখন ভোরবেলায় আজান হচ্ছিল। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত, আর একটু পর পর পাকিস্তানি হানাদারদের গানবোট টহল দিচ্ছে। কচুরিপানার আড়ালে নিজেদের গোপন করে, স্রোতের প্রতিকূলে ভেসে গিয়ে জাহাজগুলোর গায়ে মাইন সেট করেন তাঁরা। মাইন সেট করে যখন প্রাণপণে সাঁতরে ফিরছেন, ততক্ষণে ভোর ৬টা। বিকট শব্দে একের পর এক লিম্পেট মাইন বিস্ফোরিত হতে থাকে। আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক এই হামলায় সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। জলপথে তাদের রদবদল ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যায়। ব্যক্তিজীবনের ঊর্ধ্বে দেশ কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বইটির ভূমিকায় যথার্থই লিখেছেন— “এনামের লেখায় নৌকমান্ডোদের ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর প্রায় আদ্যোপান্ত উঠে এসেছে। প্রথম গদ্য প্রয়াস হিসেবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ঐতিহাসিক বিষয়ের কারণে গ্রন্থটি বিপুলভাবে পঠিত হওয়ার দাবি রাখে।” ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক ভিটা নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায়। বাবা বজলুল হক ও মা জাহেদা খাতুন। স্বাধীনতার পর জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যুক্ত হন চিত্রণ ফিল্ম সোসাইটি, নগর গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলা একাডেমির লোক-ঐতিহ্যবিষয়ক গবেষণা সংস্থায়। বর্তমানে প্রবাসে স্থায়ী হলেও তাঁর হৃদয় পড়ে থাকে প্রিয় জন্মভূমিতে। ‘অপারেশন জ্যাকপট: এক নৌ-কমান্ডোদের অহংকার’ কেবল একজন এনামুল হকের আত্মজীবনী নয়; এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল, যা নতুন প্রজন্মকে শেখায়—কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনের সব মোহ ত্যাগ করে দেশকে সবার ওপরে স্থান দিতে হয়।

উনুস সওদাগরের সালতামামি

হ্যালো হ্যালো হ্যালো, উনুস তুমি কি শুনছো? তোমার লাল টেলিফোন বাজছে না কেন আর, চেলা-চামুণ্ডা হ্যালো হ্যালো করে তুমি...

সংবিধানের সঙ

[উৎসর্গ : রাকীব হাসান ও নাহার মনিকা প্রীতিভাজনেষু] ‘কেয়া পাতার নৌকা গড়ে সাজিয়ে দেবো ফুলে’ বাংলাদেশের সংবিধানকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে-- খেলতেছে...

মিট্টিকুলাস পুলিশ হত্যা

পুলিশ তুমি কেমন আছো? খুব স্বাভাবিক জীবন যাপন? পরিবারের বাইরে তোমার কেউ কি ছিলো? কাছের, আপন?   সহকর্মীর নাম মনে...

পাওয়া, না-পাওয়া, ছেড়ে যাওয়া রবীন্দ্রনাথকে
এখনো অক্ষরমাধ্যমের রবীন্দ্রনাথই আমাদের কাছে আসল রবীন্দ্রনাথ, যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি। [...]
রবীন্দ্রনাথ আমাদের নিত্যসহচর
রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে এই চিন্তাধারার উত্তরাধিকার তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন। [...]
বাংলাদেশ: রবীন্দ্রসাহিত্যের উৎসভূমি
সমগ্র পাশ্চাত্যজগৎ রবীন্দ্রনাথের রচনার মধ্যে সেদিন পৃথিবীর মানুষের মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল। [...]
চেতনায় বেঁচে থাকুক কবিগুরু
সেই শিল্প পূর্ণতা পায় তখনই, যখন সেই শিল্পজাত বোধ পৌঁছয় আমাদের সত্তায়, জীবনদৃষ্টিতে, আমাদের দৈনন্দিন যাপনে। [...]
উনুস সওদাগরের সালতামামি
বিশ্ববেহায়া ভিভিআইপি (স্বঘোষিত) কোথায় গেল? নয়-ছয় করে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছো তুমি, বিনিময়ে শুধু ধ্বংস করেছো প্রিয় স্বদেশভূমি।
সংবিধানের সঙ
‘কেয়া পাতার নৌকা গড়ে / সাজিয়ে দেবো ফুলে’ / বাংলাদেশের সংবিধানকে / দাঁড়িপাল্লায় তুলে-- / খেলতেছে পিংপং / আলী রীয়াজ গঙ! ... 
মিট্টিকুলাস পুলিশ হত্যা
স্বার্থপরের মতোই তুমি/ প্রমোশনের স্মারক নিচ্ছো!/ তোমার কলিগ সহকর্মীর/ লাশকে তুমি কষ্ট দিচ্ছো! [...]
অপাংক্তেয়
যে নারীর চোখে চোখ রেখে মাতাল হয় কোনো পাগল কবি / সেও তো নির্লজ্জের মতো চুমু খেতে চায় [...]
অপ-দ্রষ্টা ৪২০
আহা কর কি কর কি কর কি/ বিটকিলে সব প্রশ্ন করা কি ঠিক / জানো না তিনি ৪২০ অপ-দ্রষ্টা ফারুকী [...]
বেকুব ধর্মান্ধ
বৈশাখে শোভাযাত্রা/বলো যদি মঙ্গল
ফিলিস্তিনের রুশদিয়া
ওর অন্তরের বাড়ি, ওর জন্মবাড়ি, ওর চোখে নোনা জলোচ্ছ্বাস সবই বাবুললুত।
ইতিহাসের পাতায় এক বীরের পদচ্ছাপ / নৌ-কমান্ডো এনামুল হক ও অপারেশন জ্যাকপট
মানুষের জীবনের ক্যানভাসে চিত্রিত দৃশ্য ও অদৃশ্যের নানা গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে সময়। তবে স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সময় পার হলেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বহু বীরত্বগাথা আজও লিখিত রূপ পায়নি, হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গর্ভে। যথাযথ আর্কাইভের অভাবে এমন বহু ঐতিহাসিক ঘটনা যখন ভুলতে বসেছি, ঠিক তখনই কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামনে আসছে সেই অনিশ্চিত, রোমাঞ্চকর ও ত্যাগের দিনগুলোর কথা। এমনই একজন বীর সন্তান নৌ-কমান্ডো মো. এনামুল হক, যিনি একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এ। একাত্তরের ১৬ আগস্টের প্রথম প্রহরে চালানো এই অভিযানটি ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের এক মরণঘাতী প্রহার। চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর—এই চার স্থানে একযোগে চালানো আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অস্ত্র, খাদ্য ও জ্বালানি বহনকারী ২৬টি দেশি-বিদেশি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ব গণমাধ্যমে একযোগে প্রচারিত এই খবর রাতারাতি বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কূটনৈতিক রূপরেখা। বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক তাঁর সেই রোমাঞ্চকর ও আত্মত্যাগের দিনগুলোকে ধরে রেখেছেন বইয়ের পাতায়। ২০২৩ সালের একুশে বইমেলায় নিমপিয়া পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘অপারেশন জ্যাকপট: এক নৌ-কমান্ডোদের অহংকার’ (প্রচ্ছদ: আনিসুজ্জামান সোহেল)। গ্রন্থে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন উত্তাল মার্চের ঢাকা, ২৫ মার্চের নারকীয় গণহত্যা, নৌ-কমান্ডো দলের কঠোর প্রশিক্ষণ এবং মোংলা বন্দরের সেই ঐতিহাসিক আক্রমণের কথা। কক্সবাজারের সমুদ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন ঢাকায় জন্ম নেওয়া এনামুল হকের শৈশব কেটেছে কক্সবাজারে, বাবার চাকুরিসূত্রে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত সাঁতার কাটার সেই তারুণ্যের অভিজ্ঞতাটিই পরবর্তীতে তাঁকে নৌ-কমান্ডো হিসেবে প্রস্তুত করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে তিনি যখন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র, তখন দেশজুড়ে চলছিল পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ। সেই রাজনৈতিক সচেতনতা থেকেই যুদ্ধে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেন তিনি। ২৫ মার্চের কালরাত্রির অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন— “হঠাৎই শুনতে পাই গুলির আওয়াজ। চারদিকে বারুদের গন্ধ। আব্বা ভয়ে আজান দেওয়া শুরু করলেন। আম্মা মেঝেতে চাদর বিছিয়ে সবাইকে শুয়ে পড়তে বললেন। পরবর্তী তিন দিন চলল কারফিউ। কারফিউ তুলে নিলে ঢাকার অবস্থা দেখতে বেরিয়ে যা দেখলাম তা বলার মতো না। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হলের সামনে দেখলাম মেয়েদের শাড়ি, ব্লাউজ, ওড়না ঝুলছে। জগন্নাথ হলে গিয়ে শুনি ছাত্রদের জীবন্ত পুঁতে ফেলার বীভৎস গল্প। সেই ক্ষোভ থেকেই সিদ্ধান্ত নিই—ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিতেই হবে।” ‘মৃত্যু নিশ্চিত জেনেই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর’ ভারতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন একদিন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন এনামুল হক। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা ক্যাম্পে এসে জানতে চান, কাদের সমুদ্রে ও বড় নদীতে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা আছে। উপস্থিত হাজারো বীরদের মধ্য থেকে ১৭ জনকে আলাদা করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বিশেষ এক ক্যাম্পে। সেখানে এক ভারতীয় ক্যাপ্টেন তাঁদের সোজা জানিয়ে দেন, “এটি একটি সুইসাইডাল স্কোয়াড (আত্মঘাতী দল)—এখানে গেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত।” তরুণ এনামুলকে তিনি পরামর্শ দেন সাধারণ ট্রেনিং নিয়ে দেশের ভেতরে ফিরে যুদ্ধ করতে। কিন্তু অকুতোভয় এই তরুণ পিছপা হননি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন— “মৃত্যু নিশ্চিত জেনেই যুদ্ধে এসেছি, স্যার। আমার আরও ভাই আছে, আমি দ্বিতীয়। যুদ্ধে আমি শহীদ হলেও পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হবে না। আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে চাই।” প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার আগেই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছিল—"আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বিসর্জন দিতে সম্মত হয়েই এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছি। যুদ্ধে আমার মৃত্যু ঘটলে কেউ দায়ী থাকবে না।" কঠিন বাছাইপ্রক্রিয়া শেষে ভাগীরথী নদীর তীরে তীব্র সামরিক ও লাইমপেট মাইনের কমান্ডো ট্রেনিং নেন তাঁরা। মোংলা বন্দরের সেই রক্তগরম করা ভোর অপারেশন জ্যাকপটের সেই কালজয়ী স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন—দলনেতার নির্দেশে মোংলা বন্দরে নোঙ্গর করা জাহাজগুলোতে মাইন লাগাতে রওনা হন তাঁরা। যখন নদীতে নামেন, তখন ভোরবেলায় আজান হচ্ছিল। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত, আর একটু পর পর পাকিস্তানি হানাদারদের গানবোট টহল দিচ্ছে। কচুরিপানার আড়ালে নিজেদের গোপন করে, স্রোতের প্রতিকূলে ভেসে গিয়ে জাহাজগুলোর গায়ে মাইন সেট করেন তাঁরা। মাইন সেট করে যখন প্রাণপণে সাঁতরে ফিরছেন, ততক্ষণে ভোর ৬টা। বিকট শব্দে একের পর এক লিম্পেট মাইন বিস্ফোরিত হতে থাকে। আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক এই হামলায় সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। জলপথে তাদের রদবদল ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যায়। ব্যক্তিজীবনের ঊর্ধ্বে দেশ কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বইটির ভূমিকায় যথার্থই লিখেছেন— “এনামের লেখায় নৌকমান্ডোদের ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর প্রায় আদ্যোপান্ত উঠে এসেছে। প্রথম গদ্য প্রয়াস হিসেবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ঐতিহাসিক বিষয়ের কারণে গ্রন্থটি বিপুলভাবে পঠিত হওয়ার দাবি রাখে।” ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক ভিটা নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায়। বাবা বজলুল হক ও মা জাহেদা খাতুন। স্বাধীনতার পর জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যুক্ত হন চিত্রণ ফিল্ম সোসাইটি, নগর গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলা একাডেমির লোক-ঐতিহ্যবিষয়ক গবেষণা সংস্থায়। বর্তমানে প্রবাসে স্থায়ী হলেও তাঁর হৃদয় পড়ে থাকে প্রিয় জন্মভূমিতে। ‘অপারেশন জ্যাকপট: এক নৌ-কমান্ডোদের অহংকার’ কেবল একজন এনামুল হকের আত্মজীবনী নয়; এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল, যা নতুন প্রজন্মকে শেখায়—কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনের সব মোহ ত্যাগ করে দেশকে সবার ওপরে স্থান দিতে হয়।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী অসমাপ্ত জীবনকথা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ একই সঙ্গে বিস্ময় ও আনন্দ জোগায়। [...]
চাক বাংলা অভিধান ও চাক সংস্কৃতি
তারা হলো নিজ ভাষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ চাক জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্য সমৃদ্ধিতে তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। [...]
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পদ্মানদীর মাঝি
১৯৪৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং পার্টি ফান্ডে পৈতৃক বাড়ি বিক্রির অংশীদার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ দান করেন। [...]
পুলিৎজার জিতল পার্সিভাল এভারেটের উপন্যাস ‘জেমস’
পার্সিভাল এভারেট সমকালীন আমেরিকান সাহিত্যের এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী লেখক হিসাবে সুপরিচিত। [...]
বিশ্বসাহিত্যে ফিলিস্তিনি লেখকদের বিখ্যাত ৫ বই
উপন্যাসটির অভিনব কাঠামো এবং তাত্ত্বিক গভীরতার জন্য এটি ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। [...]
রবার্ট ক্লাইভের সমর কৌশল
মীর জাফর ও রায় দুর্লভের অধীনস্ত বাহিনীর আনুগত্য এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় নবাবের মোট সৈন্য সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার বলে মনে হচ্ছিল। [...]
বাঙ্গালীর মাতৃভাষা
মায়ের কাজ মায়ের দ্বারাই সম্পন্ন করাইতে হইবে, অপরের দ্বারা তাহা কখন পূর্ণ হইবে না। [...]
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইতিহাসের পাতায় এক বীরের পদচ্ছাপ / নৌ-কমান্ডো এনামুল হক ও অপারেশন জ্যাকপট

দুর্ধর্ষ সাঁতারু মুক্তিবাহিনীর অজানা বীরত্বগাথা

শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের বিষয়ে একমত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত

ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশ / প্রিয়ভূমি’র টানে ৮ নৌসেনার দুঃসাহসিক পলায়ন

ছিনতাইকারীদের ধাক্কা, সড়কে পড়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় শিক্ষার্থী নিহত

৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার আশ্বাস অ্যামচেমের

২৭ আগস্ট বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

গ্যাস-কয়লা সংকটে বন্ধ ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র / ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ে কাবু দেশ

সিরিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দুই বছরের সীমা তুলে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১০

রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘অপারেশন জ্যাকপট ডে’ স্মারক অনুষ্ঠান ১৬ আগস্ট

১১

গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেলো সুনামগঞ্জের কাঙ্ক্ষিতা

১২

‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

১৩

১৩ বছর পর রাজাকার আজাদের আত্মসমর্পণ ও আপিল, শুনানি ১৭ আগস্ট

১৪

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ

১৫

ইলিয়াস আলী গুম মামলা: উইং কমান্ডার সাইফুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৬

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ বহাল

১৭

বেড়েই চলেছে হাম উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল

১৮

বাংলাদেশে ফের বাড়ছে সন্তান জন্মহার, ঝুঁকিতে অর্থনীতি

১৯

দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভোট

২০