

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। একই রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুল রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
শেরেবাংলানগর থানা পুলিশ জানায়, এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে নিহতের মামা ওবায়দুল রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মরিয়ম ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে পরিবারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন মরিয়ম।
রবিবার বিকেলে এমপি গাজী নজরুল নিহতের বাবাকে ফোনে দ্রুত বাসায় আসার কথা জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে ঘরের ভেতরে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুট বা ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়। তাতে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা ব্যক্ত করেছিলেন মরিয়ম। একটি চিরকুটে লেখা ছিল, “শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।”
অন্য একটি চিরকুটে তিনি লেখেন, “কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়… ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!” এছাড়া বিশ্বাসভঙ্গ ও নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে আরও কয়েকটি আবেগঘন বার্তা রেখে গেছেন তিনি।
পুলিশ ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন