

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।
ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আটক দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ বাসা থেকে চারজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ধর্মীয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করা প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
সিআইডির তথ্য মতে, তিন থেকে চার দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। লাশের অবস্থান ও ঘরের বিভিন্ন স্থান তছনছ থাকায় প্রাথমিকভাবে এটিকে ডাকাতি ও নির্মম হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছিল। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। ছাদ ও ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, ময়নাতদন্ত ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমেই পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার হবে। পুরো এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন