ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

মুনীর হাজারী
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

ইউনুস যে দেশটার কোন্ জায়গায় রাখা যাইতেছে, এটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আবদুল্লাহ মায়মুন নামে সম্প্রতি একজনের জামিন হয়েছে। তার সাথে আমার মজার কিছু স্মৃতি আছে। প্রথম তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল মুফতি হারুন ইজহারের ওখানে, পরে সাক্ষাৎ হয় কাশিমপুর কারাগারে। একই বিল্ডিংয়ে, পাশের সেলেই ছিল।

প্রথম দিন সাক্ষাতে হালপুরসির পরপরই আমাকে তার সংগঠন ‘জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়া’য় যোগদানের দাওয়াত দেয় এবং তাদের ব্লকে মাঝে মাঝে দরস দেয়ার অনুরোধ করে। আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘আপনাকে আমি চিনতাম আল-কায়েদার দাঈ হিসেবে, শারকিয়ায় কীভাবে যোগ দিলেন, বা কেন যোগ দিলেন?’ ২০১৪-২০১৫ সালের দিকে সে পুরোপুরি আল-কায়েদা এক্টিভিস্ট ছিল। ‘হানীন ইলদারম’ নামে লেখালেখি করতো। আল-কায়েদার ফোরাম ‘দাওয়াহ ইলাল্লাহ’রও মেম্বার ছিল। তখন যারা অনলাইনে ছিলেন, তাদের মনে থাকার কথা। পরে কায়েদার কিছু দায়িত্বশীল মিলে শারকিয়া গঠন করে। মায়মুন সেখানে যোগ দেয়। সংযুক্ত ভিডিওটি পাহাড়ে তাদের গোপন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের।

যাহোক, উনি আমাকে বললেন, ‘শারকিয়া মূলত আল-কায়েদারই একটা শাখা। তারা দাওয়াতি ফিল্ড তৈরি করে, আর আমরা সরাসরি আসকারি (সামরিক) ফিল্ড তৈরি করছি। আপাতত কুকিচিনের সাথে চুক্তিবদ্ধভাবে আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।’ কায়েদার একজন ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলও আমাকে এমনটাই বলেছিলেন।

যাহোক, এরপর আমি তাদের বাতিনি কার্যক্রম সম্পর্কে মৌলিক কিছু প্রশ্ন করেছিলাম, যার উত্তর সে দিতে পারেনি, বরং আমাকে ফিদেল কাস্ত্রোর জীবনীর আলোকে লেখা সাইফ আল-আদেল (কায়েদার একাংশের প্রধান) এর কিছু বই সাজেস্ট করেছিল। আমি বললাম, ‘আপনি আলেম মানুষ, আলেমদের বই সাজেস্ট করুন। ফিদেল কাস্ত্রো কিংবা মাও সে-তুং থেকে আমাকে জিহাদ শিখতে হবে না।’ তিনি কোনো উত্তর করেননি। এবং এরপর আর পারতপক্ষে আমার সামনেও পড়েননি।

সম্প্রতি এমন আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীলের জামিন হয়েছে। বলতে গেলে, শীর্ষ জঙ্গিদের তেমন কেউই এখন আর জেলে নেই। ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই-ই মোটামুটি কারামুক্ত। ‘দেশে কোনো জঙ্গি নাই, সবই সাজানো নাটক’—এই ন্যারেটিভ তৈরি করে, এর পক্ষে জনমত তৈরি করে, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে লবিং করে, গত দেড় বছরে এই কাজটা সম্পন্ন করেছে জঙ্গিরা। আমি বারবার বলছি, নির্বাচিত সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই ন্যারেটিভ ভাঙা এবং এদের মোকাবেলা করা। নির্বাচিত সরকার দূরদর্শিতার সাথে এই কাজটা করতে না পারলে পুরো দেশ তছনছ হয়ে যাবে। আরেকটা ১৭ আগস্ট হবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব-দরবারে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে পতিত স্বৈরাচারীরা। আর এর দায়ভার আসবে পুরোপুরি জামায়াত বা বিএনপির ওপর। এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক করিয়া তুলবে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১০

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১১

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১২

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১৩

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৪

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৫

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৬

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৭

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৮

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৯

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

২০