ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

জয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত ভাস্কর্যটির মূল নকশা করেছেন সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান। মূলনাম জয় বাংলা স্লোগান থেকে গৃহীত। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর, ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও পাঁচটি স্মৃতিস্তম্ভের অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্থাপিত প্রথম ভাস্কর্য।

নির্মাণ

২০১৭ সালের জুনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বারক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল করে। তখন নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান, মুজাহিদুর রহমান মুসা, জয়াশীষ আচার্য ও ও তপন ঘোষের সহযোগে জয় বাংলার নকশা করেন। ভাস্কর্যের জন্য প্রাথমিক ৫টি নকশা হতে বর্তমান নকশা নির্বাচন করা হয়।

সকল মানব প্রতিকৃতি ‘জীবিত মানুষের ছাঁচ’ থেকে নেওয়া। লোহা, সিমেন্ট, পাথর, কাচ তন্তু এটির মূল উপাদান। লোহার অবকাঠামোর ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে অবয়ব বানানো হয়েছে। ওপরের অংশ লাল ও নিচের অংশ সাদা রঙে আবৃত। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রলেপে চামড়ার ব্যবহার করা হয়েছে। নিচে দাড়ানো শিক্ষার্থীদের প্রতিকৃতিগুলি সিমেন্টের ঢালাইয়ের উপর মার্বেল চুর্ণ দিয়ে আবৃত।

২০১৮ সালের মার্চে নির্মাণ শুরু হয়। নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত অর্থায়ন লাভ করে। প্রাথমিক বাজেটের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। কাজ সম্পূর্ণ করতে নয় মাস সময় লাগে।

বর্ণনা

ভাস্কর্যটি দুই স্তরে স্থাপিত। উপরের স্তরে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি আছে, যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণকে বোঝায়। পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের একজন বাঙ্গালি, অপরজন পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্টির একজন; যা মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের যৌথ অংশগ্রহণের ভাববহন করে। ভূমিস্তরে বর্তমান প্রজন্মের ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রতিকৃতি নির্মিত, যারা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ধরে রাখে।

ভাস্কর্যটির উচ্চতা ভূমি থেকে প্রায় ১৮ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২২ ফুট। উপরের স্তরে দাড়ানো দুই মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট। নিচের স্তরে দাঁড়ানো ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট থেকে ৬ ফুট।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১০

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১১

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১২

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১৩

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৪

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৫

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৬

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৭

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৮

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৯

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

২০