

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কিন্তু ফল প্রকাশের ১৭১ দিন পার হলেও তাদের যোগদানপত্র জারি হয়নি। প্রার্থীদের দাবি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী আগে প্রশিক্ষণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই—চাকরিতে যোগদানের চার বছরের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিলেই চলে। আগের নিয়োগগুলোয় ১৪ থেকে ৫৪ দিনের মধ্যে যোগদান সম্পন্ন হলেও এবার ব্যতিক্রম কেন, সেই প্রশ্ন তুলছেন তারা।
দীর্ঘ অপেক্ষায় ভুক্তভোগীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। অনেকে আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন বেকার। এই সময়ে একজন প্রার্থী হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরেকজন, আর সন্তানকে শিক্ষক হতে দেখার অপেক্ষায় থাকা অন্তত ১২ জন প্রার্থীর বাবা এই সময়ের মধ্যে মারা গেছেন।
আন্দোলনকারী ফারজানা আক্তার বলেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে তাদের; মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে মহাপরিচালক-সচিব—সবার কাছে দাবি জানিয়েও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা মেলেনি। আরেক আন্দোলনকারী দেবব্রত রায়ের ভাষ্য, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, শুধু ন্যায্য অধিকার ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সুযোগ চান।
এই প্রেক্ষাপটে ‘কেন্দ্রীয় প্রাইমারি প্যানেল ২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে প্রার্থীরা আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে রোববার (২ আগস্ট) থেকে শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। এদিকে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় ইতিমধ্যে তীব্র শিক্ষকসংকট বিরাজ করছে—দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদও খালি, ফলে নতুনদের যোগদান আটকে থাকায় ভুগছে শিক্ষার্থীরাও।
তবে সরকার এই দাবির বিপরীতে কঠোর অবস্থানে অনড় বলে জানা গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না বলেই তাদের অবস্থান। সাবেক পিটিআই সুপার সাদিয়া জামানের মতে, প্রশিক্ষণের আগে যেমন সেনা বা পুলিশ সদস্যের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয় না, কিংবা বিএমডিসির সনদ ছাড়া চিকিৎসা প্র্যাকটিস করা যায় না, তেমনি প্রশিক্ষণ ছাড়াই লাখ লাখ শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার পুরনো চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। সাবেক নেপ পরিচালক নজরুল ইসলামও উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার জানান, গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, চলতি জুলাইয়ের মধ্যেই প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা হবে বলে আশা করছেন তারা। তবে প্রার্থীদের অভিযোগ, বারবার কেবল মৌখিক আশ্বাসই মিলছে, লিখিত সময়সীমা মিলছে না।
তথ্যসূত্র
মন্তব্য করুন