ঢাকা বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম
২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানা সদরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের দ্বারা একটি বধ্যভূমি সৃষ্টি করা হয়। এই বধ্যভূমিতে অসংখ্য নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংস অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

ঘটনার বিবরণ

১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট, শুক্রবার, কচুয়া থানা সদরে রাজাকারদের একটি থানাভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এই ক্যাম্পটি তৎকালীন সিও (সার্কেল অফিসার) অফিসের একটি ভবন দখল করে গঠন করা হয়েছিল। ক্যাম্পটির প্রথম মাসে রাজাকারদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৪১ জন, যা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বেড়ে ১৪১ জনে পৌঁছায়। এই রাজাকার বাহিনী তিন থেকে চার মাস ধরে কচুয়া থানা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার চালায় এবং তাদের ক্যাম্পের সামনে একটি বধ্যভূমি সৃষ্টি করে।

এই বধ্যভূমিতে রাজাকাররা বিভিন্ন সময়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা, যাদের নাম ও পরিচয় নিম্নরূপ:

  • টেংড়াখালী গ্রাম: হাশেম আলী শেখ, মো. হাবিব শেখ, সতীশ চন্দ্র মণ্ডল

  • জুসখোলা গ্রাম: ধলু সরদার

  • চরকাঠি গ্রাম: আজাহার আলী সরদার

  • বারইখালী গ্রাম: মনীন্দ্রনাথ সাহা

  • গুয়াতলা গ্রাম: বাবু খান

  • খলিশাখালী গ্রাম: অনিল চন্দ্র হালদার

  • হাজরাকালী গ্রাম: নুরুল হক শেখ

  • কাকারবিল গ্রাম: শফিউদ্দিন মৃধা এবং তাঁর ছেলে শাহজাহান মৃধা

এই ব্যক্তিদের রাজাকাররা ক্যাম্পের সামনে নিয়ে এসে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো কচুয়া এলাকার মানুষের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের নৃশংসতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

বধ্যভূমির তাৎপর্য

কচুয়া থানার এই বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার একটি প্রতীক। এই বধ্যভূমিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা ছিলেন নিরীহ গ্রামবাসী, যাদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারদের ভূমিকা এবং তাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের মাত্রা তুলে ধরে।

সূত্র:

  • মুক্তিযুদ্ধ কোষ (দ্বিতীয় খণ্ড), সম্পাদনা: মুনতাসীর মামুন লেখক: স্বরোচিষ সরকার

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সহিংসতার নতুন উচ্চতা / মব হত্যা দ্বিগুণ, অজ্ঞাত লাশ বেড়েছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন তীব্র

জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব’

সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়িয়ে ‘বীর’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

ইতিহাসের সাক্ষী ঝিনাইদহের ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

কারাগারের গেটে স্ত্রী-সন্তানের লাশ: একটি রাষ্ট্রের নৈতিক পতনের চিত্র

১০

ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালি নারী ও তাদের বিলাতযাত্রা

১১

নির্বাচনের মাঠে ধর্মের কার্ড: গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?

১২

নারী ভোটারদের এনআইডি কপি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ আশঙ্কাজনক: মাহদী আমিন

১৩

সরকারের কাছে পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা / অর্থাভাবে বন্ধ হতে পারে বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

১৪

নয়া প্ল্যাটফর্ম নয়, পুরানো ভণ্ডামির নতুন দোকান

১৫

ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ের উদ্যোগ বন্ধ হোক

১৬

জামায়াতে ইসলামী অনুতপ্ত নয় একাত্তরের জন্য ক্ষমা চায়নি

১৭

নিজে নিজে না নিভলে নেভে না যে আগুন

১৮

বৈষম্যের অভিশাপ / নতুন প্রজন্ম কি কেবলই একটি ‘বন্দি’ প্রজন্ম?

১৯

ঋণের বোঝায় বাড়ছে আত্মহত্যা: অর্থনৈতিক সংকটের ছায়ায় এক চলমান মানবিক বিপর্যয়

২০