ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
সরকারের কাছে পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা

অর্থাভাবে বন্ধ হতে পারে বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট। ছবি: ইউএনবি/ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত এসএস পাওয়ার লিমিটেডের ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি (যা দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি কয়লা-চালিত প্রকল্পগুলোর একটি) বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। কয়লার মজুত প্রায় শেষের দিকে, ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বকেয়া বিলের পরিমাণ ও প্রভাব

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে এসএস পাওয়ারের পাওনা বকেয়া বিলের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ না পাওয়ায় নতুন কয়লা আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহকারীরা এখন আর বাকিতে কয়লা দিতে রাজি নয়। ফলে কেন্দ্রের কয়লা স্টক ক্রমাগত কমে আসছে, এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পিডিবিকে চিঠি দিয়ে বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল না পেলে কেন্দ্র বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। সম্প্রতি তারা জানিয়েছে যে, একটি ইউনিট ১৫ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তবে জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা কিছুটা সময় বাড়িয়ে দিয়েছে।

পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে কিছু অংশ পরিশোধ করা হয়েছে (যেমন ডিসেম্বরে কয়েকশ কোটি টাকা এবং জানুয়ারিতে আরও কিছু)। তারা দ্রুত বাকি বিল পরিশোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেন্দ্রটিকে চালু রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে সম্ভাব্য প্রভাব

এই কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারে, যা অন্যান্য কয়লা-চালিত কেন্দ্রের তুলনায় খরচ কম।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে, যার কারণে অনেক গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না। তেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালাতে খরচ অনেক বেশি। এ অবস্থায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোই সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ দিতে পারে।

একই সময়ে ভারতের আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে, যা থেকে বাংলাদেশে সাধারণত ৭০০-৮০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ আসে। যদি বাঁশখালী কেন্দ্রটিও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, শীতকালে চাহিদা কম থাকলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে চাহিদা বাড়বে। তখন লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্র অচল। এখন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো যেকোনো মূল্যে চালু রাখতে হবে, না হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

সরকার ও পিডিবি দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটিকে সচল রাখার চেষ্টা করছে। অন্যথায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১০

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১১

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১২

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১৩

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৪

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৫

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৬

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৭

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৮

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৯

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

২০