ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
শহীদ বুদ্ধিজীবী

আবুল বাশার মহিউদ্দিন আহম্মদ

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৫, ০৪:৪৪ পিএম
আবুল বাশার মহিউদ্দিন আহম্মদ

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেলেও তাদের দোসর খুনি আলবদরের হাত থেকে রেহাই পাননি শিক্ষক আবুল বাশার মহিউদ্দিন আহম্মদ। বাজার করতে যাওয়ার সময় ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় কিশোরগঞ্জের এই খ্যাতনামা শিক্ষক ও ভাষাসৈনিককে।

শহীদ এ বি মহিউদ্দিন আহম্মদের জন্ম ১৯২৮ সালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পানান গ্রামে। বাবা শেখ কমধর, মা কলিমুন নেছা। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন তিনি। কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কিশোরগঞ্জের অন্যতম ভাষাসৈনিক ছিলেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়েছিলেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। কিছুদিন পর অবশ্য ইস্তফা দিয়ে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি কিশোরগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্নে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মহিউদ্দিন আহম্মদ কিশোরগঞ্জ এলাকার কোদালিয়া, নানশ্রী, কাদিরপুরসহ বিভিন্ন স্কুলে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তাড়াইল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বাংলা একাডেমির রশীদ হায়দার সম্পাদিত স্মৃতি-১৯৭১ গ্রন্থের পুনর্বিন্যাসকৃত তৃতীয় খণ্ডে মহিউদ্দিন আহম্মদকে নিয়ে তাঁর ছেলে ওয়াহিদুজ্জামানের একটি স্মৃতিকথা রয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকায় জেলায় রাজাকার আলবদরদের হাতে শহীদদের তালিকায় প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন আহম্মদের নাম রয়েছে।

স্বাধীনচেতা এ বি মহিউদ্দিন আহম্মদ তাঁর ছাত্রদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করতেন। এ কারণে একাত্তরের জুনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে স্কুল থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁর বড় ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান জানান, হানাদার সেনারা তাঁর বাবাকে দুই দিন বন্দী করে রেখে অত্যাচার করে ছেড়ে দিলেও তাদের দোসর আলবদরদের হাত থেকে তিনি থেকে রক্ষা পাননি। একাত্তরের ১০ নভেম্বর তাঁর বাবা গিয়েছিলেন শহরের কাছারিবাজারে কাঁচাবাজার করার জন্য। তখন ছিল রমজান মাস, তিনি রোজাও রেখেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রতিবেশী এক শিশু। কিশোরগঞ্জ শহরের বটতলা এলাকায় আসতেই দুই আলবদর তাঁকে ধরে মারধর করে রিকশার পাদানিতে বসিয়ে রেলস্টেশনসংলগ্ন ক্যাম্পে নিয়ে যায়। শিশুটি দৌড়ে বাড়িতে খবর দেয়।

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, স্কুলে ছিলাম। হেড স্যার আমাকে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে বললেন, তোমার ছুটি, বাসায় চলে যাও। ছুটি পেয়ে আমি মহাখুশি। বাসায় ফিরে জানতে পারি বাবাকে আলবদররা ধরে নিয়ে গেছে। সবাই বলছিল বাবা ফিরে আসবে। কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে আমরা জানতে পারি, রেলস্টেশনসংলগ্ন রাজাকার ক্যাম্পে ওই দিন রাতে বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বাবার লাশ আমরা পাইনি।

ওয়াহিদুজ্জামান জানান, তাঁর মা জমিলা খাতুন অনেক কষ্ট করে তাঁদের চার ভাই ও পাঁচ বোনকে বড় করেছেন। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বাবাকে হত্যার মামলা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে তাঁর মা মারা গেছেন। তাঁর আফসোস, স্বামী হত্যার বিচার তিনি দেখে যেতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থাকে তাঁরা চান মামলাটির দ্রুত রায় হোক। পাশাপাশি শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাঁর বাবাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হোক।

প্রথম প্রকাশ: প্রথম আলো

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১০

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১১

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১২

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

১৩

জামায়াতকে বিচারের আওতায় আনার দাবি / একাত্তরের গণহত্যা স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

১৪

২৩ মার্চ ১৯৭১: যেদিন পাকিস্তান দিবস হলো প্রতিরোধের নামে

১৫

২২ মার্চ ১৯৭১: আপসহীন সংগ্রামের ঘোষণা এবং ইয়াহিয়ার নতুন চাল

১৬

২১ মার্চ ১৯৭১: নীতির প্রশ্নে আপসহীন বঙ্গবন্ধু এবং ঘনীভূত সামরিক মেঘ

১৭

২০ মার্চ ১৯৭১: টেবিলে আশার আলো, অন্তরালে গণহত্যার নীল নকশা

১৮

১৯ মার্চ ১৯৭১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্ফুলিঙ্গ ও বীরত্বগাঁথা

১৯

১৮ মার্চ ১৯৭১: জান্তার তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বঙ্গবন্ধুর ডাক

২০