

দেড় দশক আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ ও হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ৯ আগস্ট (রবিবার) প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরোয়ানা জারি ও গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া
উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান বর্তমানে সামরিক বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রয়েছেন। ফলে তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হবে না। এই পরোয়ানা জারির ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে এবং এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। গত বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতে আদালত রবিবার পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
তদন্তের তথ্য ও সাক্ষ্যের বিবরণ
গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যাকাণ্ডে সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে। জবানবন্দির ভিত্তিতে গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফুর রহমানকে তাঁর বাসা থেকে আটক করে এবং বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধানের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনা
ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমান বাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা। গ্রেপ্তারের পূর্বে তিনি বিমান সদর দপ্তরের ‘ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিং’-এর ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও তাঁর গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অভিযোগ করা হচ্ছিল যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, ওই অপহরণ ও গুমের ঘটনায় র্যাবের গোয়েন্দা শাখা সরাসরি জড়িত ছিল।
মন্তব্য করুন