

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচন কতটা ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ছিল, তা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতা
টিআইবির মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জালভোট প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ১২৫টি সহিংসতার ঘটনা তালিকাভুক্ত হয়েছে।
সংস্থার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, “শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনি কার্যক্রমে পুরাতন রাজনৈতিক চর্চা বজায় রেখেছেন। ফলে দল ও জোটের মধ্যে আন্তঃদলীয় কোন্দল, ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত রয়েছে।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, “পূর্বের ন্যায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনে অর্থ, ধর্ম ও পেশী শক্তির ব্যবহার শুধু অব্যাহতই রাখেননি, বরং অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচন কমিশনের সীমাবদ্ধতা
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশ প্রার্থী আচরণবিধির ৫৮টি বিষয়ের মধ্যে কোনো না কোনোটি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের সক্রিয়তা থাকলেও আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়ম প্রতিরোধে ক্ষমতার কার্যকর প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “প্রার্থীদের ৯৯ শতাংশ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। নির্বাচন কমিশন অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু সক্ষমতার ঘাটতির কারণে অনেক কিছুর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।”
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রসঙ্গ
নির্বাচনে কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, "পেছনে কোন ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে তবে আমাদের বিবেচনায় আমরা কোন ইঞ্জিনিয়ারিং পাইনি। নির্বাচন তুলনামূলক সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।"
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গ
আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজাম্মান বলেন, "তৃণমূল পর্যায়ে অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে বলেছেন। তারা ভোট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের শতভাগ নেতাকর্মী ভোট দেননি- এটা বলার সুযোগ নেই।"
তবে তিনি স্বীকার করেন, "আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন 'অন্তর্ভুক্তিমূলক হল কি না' - এ নিয়ে আরো প্রশ্ন উঠবে।"
বিএনপির ঋণগ্রস্থ প্রার্থী প্রসঙ্গ
পর্যবেক্ষণে বিএনপির ঋণগ্রস্থ নির্বাচিত প্রার্থীদের বিষয়টি উঠে এলেও ইফতেখারুজ্জামান স্পষ্ট করেন, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি এক নয়। তিনি বলেন, "আইন অনুযায়ী এরা কিন্তু ঋণ খেলাপি নন।"
টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, পতিত কর্তৃত্ববাদী শক্তির ঘোষিত নির্বাচন বিরোধী তৎপরতার কারণে অস্থিতিশীলতা ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করেছে।
মন্তব্য করুন