

বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই সময়ে হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধগুলো উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে সংস্থাটি তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করেছে।
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
অপরাধের পরিসংখ্যানগত চিত্র (মার্চ-এপ্রিল)
টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে অপরাধের একটি সুনির্দিষ্ট খতিয়ান তুলে ধরে। মূলত মার্চ ও এপ্রিল মাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই পরিসংখ্যানে আইনশৃঙ্খলার যে চিত্রটি উঠে এসেছে তা নিম্নরূপ:
| অপরাধের ধরন | ঘটনার সংখ্যা |
| হত্যাকাণ্ড (খুন) | ৬০৫টি |
| অপহরণ | ১৯৬টি |
| ছিনতাই | ২৯৪টি |
| ডাকাতি | ৯০টি |
| চুরি | ২,২১৪টি |
| নারী ও শিশু নির্যাতন | ৩,৪৯৬টি |
| পুলিশের ওপর হামলা | ১২৯টি |
জঘন্যতম অপরাধ: ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন
আলোচিত সময়ে দেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী:
দেশজুড়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন নারী।
সংঘবদ্ধ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৬ জন।
বিশেষ করে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে শিশুদের ওপর নির্যাতন; এই সময়ে ৪৯ থেকে ৭১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
টিআইবির বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই নাজুক ও নিয়ন্ত্রণহীন ছিল।
তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন: “খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট এবং অরাজকতার মতো ঘটনাগুলো মাঠপর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনা ইঙ্গিত করে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ও কার্যকারিতা পুনরুত্থাপনে আরও সুদৃঢ় পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।”
সংকট ও উত্তরণের সুপারিশ
গবেষণায় দেখা যায়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তন বা ক্রান্তিকালের সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। টিআইবি মনে করে, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেকোনো সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। এই অরাজক পরিস্থিতি ও অপরাধের ধারা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন