ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবি ইরানের

তেহরানের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' স্ট্রাইক গ্রুপ ১,০০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে
প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট (F/A-18E Super Hornet) উড্ডয়ন করছে। ছবি: ইউএস নেভি হ্যান্ডআউট (গেটি ইমেজেসের মাধ্যমে)

ইরান দাবি করেছে যে, নতুন করে হামলার মাধ্যমে তারা মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' স্ট্রাইক গ্রুপকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে। যদিও ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে সরকার পতনের অভিযানে যুদ্ধজাহাজগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে ইরানি সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে সামরিক অভিযানে লিপ্ত থাকা অবস্থায় নিমিটজ-শ্রেণির এই বিমানবাহী রণতরীটি "ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে"।

এই কর্মকর্তা বলেন, "এটি এবং এর সাথে থাকা ধ্বংসকারী জাহাজগুলো (ডেস্ট্রয়ার) এলাকা ত্যাগ করেছে এবং এ পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে।"

তবে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এর বিপরীত তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্ট্রাইক গ্রুপটি "উপকূলের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে এবং প্রণালী থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা বজায় রেখেছে।"

তেহরানের সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে গত শনিবার ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরান আক্রমণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী।

উভয় পক্ষই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছে এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পর্কে মিথ্যা রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের দাবি সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ৫০০-এরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে পেন্টাগন বুধবার পর্যন্ত কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে একটি একক হামলায় মাত্র ছয়জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে এবং আরও নিহতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

ড্যান কেইনের সাথে কথা বলার সময় যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিন হতাহতের সংবাদ প্রচারকে "ফেক নিউজ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, গণমাধ্যমগুলো মার্কিন সামরিক আধিপত্যের ব্যাপক চিত্রটি তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, "সংবাদমাধ্যমগুলো কেবল প্রেসিডেন্টকে খারাপ দেখানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু একবারের জন্য হলেও বাস্তবতা রিপোর্ট করার চেষ্টা করুন।"

এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৭ জন কুয়েতি সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন।

মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। কারণ নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি দেশকে বিদেশি যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সূত্র: আরটি.কম

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা

কাঁচামাল সংকট: বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ: রণাঙ্গনের অকুতোভয় মহানায়ক

২০ এপ্রিল ১৯৭১: বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের আত্মত্যাগ ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের দিন

নীতি-ভুলের খেসারত / মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরছে নির্মূল হওয়া রোগ

১৯ এপ্রিল ১৯৭১: প্রবাসী সরকারের শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনা ও রণক্ষেত্রে রক্তের দাগ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

১৭ এপ্রিল ১৯৭১: স্বাধীন বাংলাদেশের সূর্যোদয় ও মুজিবনগর সরকার

মুজিবনগর দিবস: এক অমর ইতিহাসের মহাকাব্য

১৬ এপ্রিল ১৯৭১: শপথের প্রতীক্ষা ও রণক্ষেত্রের আর্তনাদ

১০

মুজিবনগর ও আমাদের প্রথম সাংবিধানিক পরিচয়

১১

১২ এপ্রিল ১৯৭১: সরকারের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও বালারখাইলের রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি

১২

রক্ষাকালী মন্দির গণহত্যা: পাবনার এক রক্তাক্ত অধ্যায়

১৩

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম ভাষণ

১৪

১১ এপ্রিল ১৯৭১: তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ও সংগঠিত প্রতিরোধের সূচনা

১৫

১০ এপ্রিল ১৯৭১: বাংলাদেশের প্রথম সরকার ও স্বাধীনতার সনদ

১৬

১০ এপ্রিল ১৯৭১: যখন যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আইনি সূর্য

১৭

০৫ এপ্রিল ১৯৭১: বহুমুখী যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

১৮

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

১৯

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

২০