

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে যোগ না দেওয়ায় সৌদি আরবের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। একই সঙ্গে এই লড়াইয়ে অংশ না নিলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম লিখেছেন, “আমার জানা মতে, এই বর্বর ও সন্ত্রাসী ইরানি শাসনব্যবস্থাকে হঠানোর লড়াইয়ে সৌদি আরব তাদের সক্ষম সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ এই ইরানই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে এবং সাতজন আমেরিকানকে হত্যা করেছে।”
গত ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত সপ্তম আমেরিকান সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে ইরান সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ অংশে হামলা চালায়।
প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
সিনেটর গ্রাহাম তার পোস্টে আরও প্রশ্ন তোলেন, সৌদি আরবের মতো একটি দেশ, যারা পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে অংশ নিতে অনিচ্ছুক, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি করা উচিত কি না? তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে, সৌদি আরব তাদের মাটি ব্যবহার করে ইরানে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি।
গত মাসে গ্রাহাম সৌদি আরব সফর করে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই যুদ্ধে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা এখন ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান
গ্রাহামের এই হুমকি চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে না।
জেনিভায় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল-মুশারখ বলেন, “আমরা শুরু থেকেই কূটনীতি ও উত্তেজনা কমানোর কথা বলে আসছি। আমাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় ব্যবহৃত হবে না।”
সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ শুরু না করার জন্য অনুরোধ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তাদের জ্বালানি ও পরিশোধন কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো আক্রান্ত হবে। বর্তমানে ইউএই, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে পড়ায় সেই আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে।
যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়াতে চায় না যাতে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত নয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহেও ইরানের শাসনব্যবস্থা অটুট রয়েছে।
এমনকি ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দাবিকে উপেক্ষা করে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, তার ধনী অংশীদারদের ওপর এই ভয়াবহ হামলা তার জন্য ‘সবচেয়ে বড় বিস্ময়’। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পকে এই পরিণতির কথা আগেই জানানো হয়েছিল, যা তিনি উপেক্ষা করেছেন।
তথ্যসূত্র
মিডল ইস্ট আই
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের পোস্ট
মন্তব্য করুন